প্রকাশিত: / বার পড়া হয়েছে
ফেনীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। চলতি বছরের নয় মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৬ শত ২৮ জনে। যার একটি বড় অংশই শনাক্ত হয়েছে চলতি সেপ্টেম্বর মাসে। গত বছর যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ২শত ১ জন সেখানে চলতি বছরের নয় মাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লো দ্বি-গুনের বেশী। এ নিয়ে আতংকে দিন যাপন করছেন জেলার বাসিন্দারা।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সনের শুরু থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় সর্বমোট ৬২৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। যা গত ২০২৫ সালের মোট আক্রান্তের তুলনায় ৩ গুনের বেশি। গত বছর জেলায় মোট আক্রান্ত ছিলো ২০১ জনে। এ ছাড়া জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলাজুড়ে ১৮৯ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন করে ২৩ জন ডেঙ্গু পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, গত আগস্ট মাসে যেখানে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৪৫ জন, সেখানে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ২৪ দিনেই তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮২ জনে। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার অবস্থা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে মোট আক্রান্ত ৪৫৫ জন। যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৭৫ শতাংশ। এ ছাড়া দাগনভূঞা উপজেলায় ৪৫ জন,সোনাগাজী উপজেলায় ৪৩ জন, ছাগলনাইয়া উপজেলায় ২৬ জন, পরশুরাম উপজেলায় ১৭ জন এবং ফুলগাজী উপজেলায় ১৫ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।
বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ফেনী সদরে ১৬ জন, ছাগলনাইয়ায় ৪ জন, সোনাগাজীতে ২ জন এবং পরশুরামে ২ জন রোগী ভর্তি আছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোঃ রোকন-উদ-দ্দৌলা জানান, এমনিতে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল রোগীতে পরিপূর্ণ তার উপর ডেঙ্গু পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করছে। সীমিত সংখ্যক জনবল নিয়ে আমাদেরকে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হচ্ছে। ডেঙ্গু থেকে উত্তরণের জন্য তিনি সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানান।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান জানান, ফেনীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়ানক পর্যায়ে রয়েছে। যদি নাগরিকগন স্বাস্থ্যবিধি মেনে সচেতনতা অবলম্বন করেন তাহলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে ইনশাআল্লাহ। বর্তমানে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য জেলায় বর্তমানে ৭,০০০টি টেস্ট কিট মজুত রয়েছে। যার মধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ১১৯টি, পরশুরামে ৩শত ৬১টি, সোনাগাজীতে ১শত ১৮টি, দাগনভূঞায় ১শত ৮টি, ছাগলনাইয়ায় ১শত ৪টি এবং ফুলগাজীতে ৭২টি।
তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মশা নিধন ও সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। বাসাবাড়ির চারপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।