Friday, 24 July, 2026
Logo
বিজ্ঞাপন
যাবতীয় রড, সিমেন্ট, ইট, বালি ও কনা পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করা হয় ।। যোগাযোগ- মেসার্স হোসেন ব্রাদার্স/ জাকের ট্রেডার্স।। সোবান মঞ্জিল, বসুর হাট রোড, সিনেমা হলের পাশে, দাগনভুইয়া, ফেনী। প্রোপ্রাইটর জাকের হোসেন আলমগীর ০১৭১১-৯৬২৯২৫।। ০১৮৭১-৯৩০০০৮ মেসার্স কে আহাম্মদ এন্ড সন্স! পরিবেশক,বি এম, ডেল্টা ও ইউনি এল পি গ্যাস! যোগাযোগ- বসুরহাট রোড, সিনেমা হলের সামনে, দাগনভুইয়া, ফেনী- ০১৭১১-৩০৪৮৭৩, ০১৮৩৯-৩৯৭১৩০! দাগনভুইয়া ফিজিওথেরাপী সেন্টার, একটি আধুনিক বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস ও মুখ বাঁকা চিকিৎসা কেন্দ্র। ঠিকানা- সোবহান মঞ্জিল, বসুর হাট রোড। (সাবেক ঝর্না সিনেমা হলের পাশে)। দাগনভুইয়া, ফেনী। 01818-019684, 01721-910110 সর্বাধুনিক মেশিনে রোগ নির্নন ও বিশেষজ্ঞ ডক্টর চেম্বার।। ফেনী ল্যাব সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার।। এস এস কে রোড়, ফেনী।। 01711375108/ 01815507975

মুক্তিবাহিনীর আশ্রয় দাতাদের চলাচলের রাস্তার বেহাল দশা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: / বার পড়া হয়েছে


ছবি - সংগৃহীত

দেখলে মনে হবে ধান রোাপণ করার উপযোগী ক্ষেত। দাগনভূঞা, রাজাপুর ইউনিয়ে, এমনই একটি রাস্তার সন্ধান পাওয়া গেছে। যে রাস্তা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধারা ব্যাবহার করতেন। প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তার পুরোটা একেবারেই কাঁচা। প্রতি বর্ষায় এই রাস্তা যেন অভিশাপ নিয়ে আসে সুরা হাজী বাড়ির প্রায় ২০০ মানুষের জন্য।

গাড়ি তো দূরে থাক, হেঁটে পার হওয়াই মুশকিল। তারপরও প্রয়োজনের তাগিদে ওই রাস্তা দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। বছরের পর বছর কাঁদা পানিতে ডুবে থাকে এই রাস্তাটি। কিন্তু কারো নজরে পড়ে না।

সরেজমিনে দেখা যায়, দাগনভূঞা উপজেলা, ২ নং রাজাপুর ইউনিয়ন ৪ নং ওয়ার্ড, উত্তর ভবানীপুর, সুরা হাজী বাড়ির প্রায় আধা কিলোমিটার রাস্তার পুরোটাই কাঁদা ও পানির নিছে। কাঁদার কারণে এই রাস্তায় কোনো গাড়ি আসতে চায় না। জরুরি প্রয়োজনে ৩-৫ গুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়ায় গাড়ি আনতে হয়। চলাচলাকারীদের জুতা হাতে নিয়ে কাপড় হাঁটু পর্যন্ত তুলে কোনোরকমে পা টিপে টিপে পার হতে হয়। গুরুতর অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিতে হলে বেগ পেতে হয়। অ্যাম্বুলেন্সসহ যেকোনো গাড়ির চালক রাস্তার নাম শুনলেই সাথে সাথে না করে দেন। ফলে বাড়তি ভাড়ায় রাজি করাতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে, এই সুরা হাজী বাড়িতে মুক্তিবাহিনীরা ক্যাম্প করেছিল। এই বাড়ির দাদী চাচীরা, মুক্তিবাহিনীদের রান্না বান্না করে খাওয়াইছেন। রাতভর পাহারা দিতেন। কিন্তু দেশ স্বাধীন হলেও এই বাড়ি ও বাড়ির রাস্তা এখনো স্বাধীন হয়নি।

 

সূরা হাজী বাড়ির বাসিন্দা, সাফিয়া খাতুন বলেন, আমার মা এখনো জীবিত, তিনি সহ আমার দাদী চাচীরা, মুক্তিযুদ্ধাগো খেদমত করছে। দিনে যুদ্ধে যাইত, রাইতে এসে আমগো বাড়িতে আশ্রয় নিত। অথচ আমরা আজকে অবহেলিত। কোন সরকার এমপি, মন্ত্রী, চেয়ারম্যান আমগো এই রাস্তায় কোনদিন এক মুঠো মাটিও ফেলেননি। বর্ষা বাদল আসলে আমগো দূর্গতির শেষ নেই। সরকার যদি দয়া করি এই রাস্তাটা করে দিত আমরা বহুত শান্তি পাইতাম। 

ভুক্তভোগী স্বপন বলেন, ভোট আসলে সবাই এই বাড়িতে ভোট চাইতে আসে, ভোটের পরে সবাই বলে রাস্তা করে দিবে। কিন্তু ভোট শেষ হইলে কোন প্রতিনিধির খোঁজ পাওয়া যায়না। এই রাস্তা নিয়ে বর্ষাকালে আমরা যে কি পরিমান কষ্টে থাকি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীদুল ইসলাম জানান, আমি আপনার কাছ থেকেই শুনলাম, যে মুক্তিযুদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত রাস্তা চলাচলের অযোগ্য। আমরা দেখে আসবো এবং তারা লিখিত কোন আবেদন করলে আগামী অর্থ বছরে রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নিতে চেষ্টা করবো।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগীরা প্রত্যাশা করেন, তাদের দূর্ভোগ ও দূর্গতি বিবেচনা করে, মুক্তিবাহিনীদের আশ্রয় দেয়া বাড়ির মানুষদের চলাচলের রাস্তাটি সংস্কারের উদ্যোগ নিতে আন্তরিক হবেন।

Share

আরো খবর


সর্বাধিক পঠিত