Saturday, 18 July, 2026
Logo
বিজ্ঞাপন
যাবতীয় রড, সিমেন্ট, ইট, বালি ও কনা পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করা হয় ।। যোগাযোগ- মেসার্স হোসেন ব্রাদার্স/ জাকের ট্রেডার্স।। সোবান মঞ্জিল, বসুর হাট রোড, সিনেমা হলের পাশে, দাগনভুইয়া, ফেনী। প্রোপ্রাইটর জাকের হোসেন আলমগীর ০১৭১১-৯৬২৯২৫।। ০১৮৭১-৯৩০০০৮ মেসার্স কে আহাম্মদ এন্ড সন্স! পরিবেশক,বি এম, ডেল্টা ও ইউনি এল পি গ্যাস! যোগাযোগ- বসুরহাট রোড, সিনেমা হলের সামনে, দাগনভুইয়া, ফেনী- ০১৭১১-৩০৪৮৭৩, ০১৮৩৯-৩৯৭১৩০! দাগনভুইয়া ফিজিওথেরাপী সেন্টার, একটি আধুনিক বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস ও মুখ বাঁকা চিকিৎসা কেন্দ্র। ঠিকানা- সোবহান মঞ্জিল, বসুর হাট রোড। (সাবেক ঝর্না সিনেমা হলের পাশে)। দাগনভুইয়া, ফেনী। 01818-019684, 01721-910110 সর্বাধুনিক মেশিনে রোগ নির্নন ও বিশেষজ্ঞ ডক্টর চেম্বার।। ফেনী ল্যাব সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার।। এস এস কে রোড়, ফেনী।। 01711375108/ 01815507975

প্রসঙ্গ ২ নং রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ, সমস্যা ও সমাধান কোন পথে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: / বার পড়া হয়েছে


ফাইল ফটো

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের প্রাচীনতম ও সর্বনিম্ন প্রশাসনিক একক হলো ইউনিয়ন পরিষদ। ১৮৭০ সালের 'গ্রাম চৌকিদারি আইন' (Village Chowkidari Act) পাশের মাধ্যমে ‘ইউনিয়ন পঞ্চায়েত’ নামে এর যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় নাম পরিবর্তিত হয়ে ১৯৭৩ সালে এটি বর্তমান ‘ইউনিয়ন পরিষদ’ নাম ধারণ করে।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদসমূহ স্থানীয় পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, রাজস্ব আদায়, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দেশের প্রায় সব ইউনিয়নে, পরিষদের স্থায়ী ভবন থাকলেও ফেনী দাগনভূঞা উপজেলা ২ নং রাজাপুর ইউনিয়নের মানুষ স্থায়ী ভবন থেকে এখনো বঞ্চিত। ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের পর থেকেই অস্থায়ী ও ভাড়ার ভিত্তিতে চলে আসছে পরিষদের সেবা কার্যক্রম। 

অনেক জল্পনা কল্পনার পর ২ নং রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হলেও, স্থান নির্ধারণ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিপত্তি। ইউনিয়নের সর্ব, পশ্চিমের বাসিন্দাদের দাবি, যে স্থানটিকে (রাজাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন) কেন্দ্র করে ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে, তা নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। তা ছাড়া ইউনিয়নের একেবারে পূর্বে (রাজাপুর) যদি বোর্ড অফিস নির্মাণ করা হয়, এতে পশ্চিমের (কোরাইশমুন্সি, সমাসপুর, ঢেউয়ালিয়া, ভবানীপুর, আবদুল নবীসহ) প্রায় ৭ টি ওয়ার্ডের ৩০ হাজার মানুষের সাথে বৈষম্য করা হবে। 

তাই ইউনিয়নের পশ্চিমের মানুষেরা কোরাইশমুন্সি বাজার কেন্দ্রিক ইউপি বোর্ড অফিস নির্মাণের জন্য ২৫ শতক নিষ্কণ্টক জায়গা ঠিক করেছেন। তারা আরো দাবি করেন, ইউপির এক প্রান্তে বোর্ড অফিস নির্মাণ হলে অন্য প্রান্তের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সাথে প্রতারণা করা হবে। 

স্থান নির্ধারণে পূর্ব ও পশ্চিমের জনদাবির মুখে পড়ে বোর্ড অফিস নির্মাণ প্রক্রিয়া অনেকটা মাঝপথে থেমে গেছে। উপর নিচে চালাচালি হচ্ছে স্মারক ও চিঠি। 

প্রশ্ন হলো : ইউনিয়নের সর্বসাধারণের মত ও পথের তোয়াক্কা না করে এই বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পিছনে কে বা কারা দায়ী? এই প্রশ্নের উত্তর খুবই স্বাভাবিক। 

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার সর্বশেষ এই ধাপ টির স্থায়ী ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়াটি বেশ লম্বা। অনেক দিনের হিসাব নিকাশের ফলে ভবন নির্মাণের টেন্ডার প্রক্রিয়া সমাপ্ত হয়েছে। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ার সাথে প্রথম থেকে যারা জড়িত ছিল, তারা কেউ এই টানা টানি ও দ্বিধা বিভক্তির দায় এড়াতে পারেন না। তৃণমূলে সাধারণ মানুষের সরকারি সেবা সহজ ও দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার হিসাব-নিকাশ, রক্ষক রা, যাচাই, বাছাই ও মাঠ জরিফ না করে অপরিকল্পিত ও হটকারী সিদ্ধান্তের ফলই হচ্ছে আজকের এই বিতর্ক। 

ইউনিয়ন পরিষদের স্থায়ী ভবন নির্মাণের সর্বশেষ নীতিমালায় বলা হয়েছে, নতুন কমপ্লেক্স ভবনের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিমাণ ভূমি ও অবকাঠামোগত সুবিধার শর্ত পূরণ হলে সাধারণত ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্যমান স্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে বিদ্যমান স্থানের পরিবর্তে নতুন স্থান নির্বাচনের জন্য নিচের শর্তসমূহ পূরণ করতে হবে। প্রস্তাবিত স্থানে জমির পরিমাণ ০.২৫ (শূন্য দশমিক দুই পাঁচ) একর হতে হবে। তবে, পার্বত্য এলাকা, দ্বীপাঞ্চল, সমুদ্র উপকূলীয় চরাঞ্চল, নিম্নাঞ্চল ও হাওর-বাঁওড় এলাকার জন্য প্রয়োজনে সরকার এ শর্ত শিথিল করতে পারবে। স্থানটি যথাসম্ভব ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে হওয়া বাঞ্ছনীয়; প্রস্তাবিত স্থানে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অপেক্ষাকৃত উন্নত এবং ইউনিয়নের সব স্থানের সাথে সংযুক্ত হতে হবে; স্থানটির কাছাকাছি অবকাঠামোগত সুবিধা, যেমন : রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার, হাসপাতাল বা চিকিৎসা কেন্দ্র, ব্যাংক, সরকারি বা আধা সরকারি অফিস ইত্যাদি থাকলে তা ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হবে। কমপ্লেক্স ভবনের স্থানটি অপেক্ষাকৃত উঁচু, নদী ভাঙন ও বন্যামুক্ত হতে হবে।

সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী রাজাপুর থেকে কোরাইশমুন্সি বাজার সংলগ্ন স্থানটি অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে। কিন্তু কোরাইশমুন্সি বাজারের পাশে বোর্ড অফিস নির্মাণের বিপক্ষে রাজাপুর সংলগ্ন ৩ ওয়ার্ডের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। তাদের দাবি, যে স্থানটিকে কেন্দ্র করে সব প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে সেখানে পূর্ব থেকে বোর্ড অফিসের কার্যক্রম চলে আসছিল। এ ছাড়া, ইউনিয়নের নামকরণ করা হয়েছে রাজাপুরের নামে। এসব যুক্তিতে রাজাপুরে বোর্ড অফিস হওয়া উচিত বলে জোর দাবি করে আসছেন ইউপির পূর্ব প্রান্তের স্টেক হোল্ডার রা। 

পূর্ব- পশ্চিমের দাবি, যুক্তি, তর্ক বিতর্ক ও সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়াতে জেলা প্রশাসক স্থান নির্ধারণর বিষয়টি মীমাংসা স্বার্থে একটি প্রতিবেদন পাঠান স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। 

চিঠির জবাবে, গত ১৮ জুন ২০২৬, ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলাধীন রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণের স্থান নির্বাচনের বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামতসহ পুনরায় প্রতিবেদন প্রেরণ প্রসঙ্গে, স্থানীয় সরকার, পল্লি উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়-এর ইউপি-১, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়, দাগনভূঞা, বরাবর দৃষ্টি আকর্ষণ করে, জানতে চাওয়া হয় যে, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, 'ক' তফশিল ভূমি (মৌজা-২৮ নং উত্তর রাজাপুর, খতিয়ান নং-১১৯০, দাগ-৩৮৯ এর ০.৩৩ একর) এর পরিবর্তে 'খ' তফশিল ভূমিতে (মৌজা-আবদুল নবী, খতিয়ান নং-১৫৭০, দাগ-১০১৪,১০১৫, ১০১৬ এর ০.২৬ একর) ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলাধীন ২ নং রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা যাবে কিনা, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের ১৬/০৯/২০১৩ খ্রি. তারিখে ৬৮৫ নং স্মারকে জারীকৃত পরিপত্র অনুযায়ী বিস্তারিত প্রতিবেদনসহ মতামত প্রেরণের জন্য, ১র নং স্মারকমূলে এ কার্যালয়কে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়। 

এই স্মারকের সারমর্ম এই যে, কোথায় বোর্ড অফিসের স্থায়ী ভবন নির্মাণ হবে, তা অনেকটা নির্ভর করছে দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহীর সুচিন্তিত মতামতের উপর। এক কথায় বোর্ড অফিস নির্মাণের স্থান নির্ধারণ জটিলতার "বল এখন উপজেলা নির্বাহীর কোটে।

পূর্ব- পশ্চিমের টানাটানি ও সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়িয়ে সৃষ্ট জটিলতার প্রকৃত সমাধান কী ? এই প্রশ্নে ৩টি পথ বেছে নিতে পারে উপজেলা ও স্থানীয় প্রশাসন। 

প্রথমত : নিরপেক্ষ ভূমিকায় থেকে ইউনিয়নের সর্বসাধারণের সমান সুযোগ নিশ্চিতে মাঠ ও সীমানা জরিপের মধ্যে দিয়ে ভবনের স্থানটি মধ্যখানে নির্বাচন করা। 

দ্বিতীয়ত : পূর্ব ও পশ্চিমের নির্ধারিত ২ টি স্থানের মধ্যে, সরকারি নীতিমালা মোতাবেক যেটি উৎকৃষ্ট ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমতের প্রতিফলন ঘটে, সেটি বাঁচাই করে সুনির্দিষ্ট প্রতিবেদন দাখিল করা।

তৃতীয়ত : ৯ টি ওয়ার্ডকে সমানভাবে বণ্টন করে ইউনিয়নকে বিভক্ত করে ২ টি ইউনিয়ন পরিষদ ঘোষণা করা।  ২ নং, ইউপি বোর্ড অফিস নির্মাণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এই ৩ টি ফরমুলা ধরেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগানো ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না।

সর্বশেষ, ক্ষমতার বাহাদুরি, নিজ স্বার্থ, ইগো ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব পরিহার করে ২ নং রাজাপুর ইউনিয়ন বাসীর সার্বিক ও মানবিক কল্যাণ চিন্তা করে, জনসাধারণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে, বৈষম্য ও বিতর্কহীন সম্মিলিত উদ্যোগ এই সমস্যা সমাধানের একমাত্র, মত এবং পথ বলে বিবেচনা করছি।

Share

আরো খবর


সর্বাধিক পঠিত