Friday, 24 July, 2026
Logo
বিজ্ঞাপন
যাবতীয় রড, সিমেন্ট, ইট, বালি ও কনা পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করা হয় ।। যোগাযোগ- মেসার্স হোসেন ব্রাদার্স/ জাকের ট্রেডার্স।। সোবান মঞ্জিল, বসুর হাট রোড, সিনেমা হলের পাশে, দাগনভুইয়া, ফেনী। প্রোপ্রাইটর জাকের হোসেন আলমগীর ০১৭১১-৯৬২৯২৫।। ০১৮৭১-৯৩০০০৮ মেসার্স কে আহাম্মদ এন্ড সন্স! পরিবেশক,বি এম, ডেল্টা ও ইউনি এল পি গ্যাস! যোগাযোগ- বসুরহাট রোড, সিনেমা হলের সামনে, দাগনভুইয়া, ফেনী- ০১৭১১-৩০৪৮৭৩, ০১৮৩৯-৩৯৭১৩০! দাগনভুইয়া ফিজিওথেরাপী সেন্টার, একটি আধুনিক বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস ও মুখ বাঁকা চিকিৎসা কেন্দ্র। ঠিকানা- সোবহান মঞ্জিল, বসুর হাট রোড। (সাবেক ঝর্না সিনেমা হলের পাশে)। দাগনভুইয়া, ফেনী। 01818-019684, 01721-910110 সর্বাধুনিক মেশিনে রোগ নির্নন ও বিশেষজ্ঞ ডক্টর চেম্বার।। ফেনী ল্যাব সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার।। এস এস কে রোড়, ফেনী।। 01711375108/ 01815507975

টক অব দ্য কান্ট্রি : কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি!

অনলাইন ডেস্কঃ

প্রকাশিত: / বার পড়া হয়েছে


ছবি - সংগৃহীত

যেকোনো সময় পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শারিরীক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে সরকার বা বঙ্গভবন থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা বা বিবৃতি আসেনি।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের বার্তা দেয়া হয়েছে। সরকার ও বিএনপির উচ্চ পর্যায় থেকে নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা বলেন, “রাষ্ট্রপতি তাদের সঙ্গে আলোচনায় প্রায়ই বলতেন, শরীরটা ভালো যাচ্ছে না, যেকোনো সময় যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারি।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই বলেন এ বিষয়ে এখনো তিনি অবগত নন। তিনি বলেন, “এটা সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বিষয়।”

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করতে চান, তবে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারবেন। এ বিষয়ে সরকারের কোনো করণীয় নেই।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ে কক্সবাজারের উন্নয়ন ও পর্যটন নগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন তো গুঞ্জনই। সেটি যদি বাস্তবে ঘটে, তখন আমরা দেখব।”

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নঈম আক্তার সিদ্দিক গণমাধ্যমকে বলেন, &l dquo;সংবিধানের ৪৮ থেকে ৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং পদত্যাগসহ অন্যান্য বিষয় উল্লেখ রয়েছে। ব্যক্তিগত কারণ, নৈতিক কারণে কিংবা শারীরিক অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে পদত্যাগ হলে তা সাংবিধানিক ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হবে।

রাষ্ট্রপতি ব্যক্তিগত বা শারীরিক কারণে পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক ব্যবস্থা রয়েছে। ড. নঈম আক্তার সিদ্দিক বলেন, “সংসদে যাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকবে, তাদের সমর্থিত প্রার্থীই স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তার দায়িত্ব হবে নিরপেক্ষভাবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করা।”

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে সংবিধানে যা আছে

সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের উদ্দেশে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র পাঠিয়ে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এছাড়া সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমূল বদলে যায়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন।

গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অপসারণ চেয়েছিলেন ছাত্রনেতারা। তার পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছিল জুলাই আন্দোলনকেন্দ্রিক বিভিন্ন সংগঠন। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি ও সরকারের রাজনৈতিক পটভূমিতে ভিন্নতা তৈরি হয়। মো. সাহাবুদ্দিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেও সরকার গঠনের পর বিএনপি তাকে সঙ্গে সঙ্গে সরানোর পথে যায়নি।

বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আলোচনা ছিল রাষ্ট্রপতি পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন কিনা। আর এখন বিষয়টি টক অব দ্য কান্ট্রি তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া পরবর্তী রাষ্ট্রপতি বিএনপি থেকে কেউ হচ্ছেন-নাকি দলের বাইরে থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হবে, এমন আলোচনাও গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেকে বলছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে বিএনপি তাদের পছন্দ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নিয়োগের সুযোগ পাবে।

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় যারা

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বিএনপিতেই রাষ্ট্রপতি হওয়ার মতো যোগ্য প্রার্থী আছেন। হয়তো তাদের মধ্য থেকেই বাছাই করা হতে পারে। আর দলের বাইরে কাউকে আনার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

তবে রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় আছেন বিএনপি নেতাদের মধ্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয় ও পরবর্তীকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে ঢাকা কলেজে অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। ১৯৮৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা ফখরুল তার শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নেন এবং সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৮৮ সালে বিএনপিতে যোগ দেন।

ড. মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান সরকারের কোনো পদে স্থান পাননি। ধারণা করা হচ্ছে, বড় পদের জন্য হয়তো তাদের রিজার্ভ রাখা হয়েছে।

মঈন খান রাজনীতিবিদ ও সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আবদুল মোমেন খানের ছেলে। বাবার হাত ধরেই তিনি রাজনীতি শুরু করেন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে ২০০১-২০০২ পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বিএনপির সভাপতি এবং বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম মহাসচিব পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য। কুমিল্লা-২ আসন থেকে চারবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ১৯৯৬ সালে স্বল্পমেয়াদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি চারদলীয় জোট সরকারের সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ছিলেন।

Share

আরো খবর


সর্বাধিক পঠিত