Saturday, 24 October, 2026
Logo
বিজ্ঞাপন
যাবতীয় রড, সিমেন্ট, ইট, বালি ও কনা পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় করা হয় ।। যোগাযোগ- মেসার্স হোসেন ব্রাদার্স/ জাকের ট্রেডার্স।। সোবান মঞ্জিল, বসুর হাট রোড, সিনেমা হলের পাশে, দাগনভুইয়া, ফেনী। প্রোপ্রাইটর জাকের হোসেন আলমগীর ০১৭১১-৯৬২৯২৫।। ০১৮৭১-৯৩০০০৮ মেসার্স কে আহাম্মদ এন্ড সন্স! পরিবেশক,বি এম, ডেল্টা ও ইউনি এল পি গ্যাস! যোগাযোগ- বসুরহাট রোড, সিনেমা হলের সামনে, দাগনভুইয়া, ফেনী- ০১৭১১-৩০৪৮৭৩, ০১৮৩৯-৩৯৭১৩০! দাগনভুইয়া ফিজিওথেরাপী সেন্টার, একটি আধুনিক বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস ও মুখ বাঁকা চিকিৎসা কেন্দ্র। ঠিকানা- সোবহান মঞ্জিল, বসুর হাট রোড। (সাবেক ঝর্না সিনেমা হলের পাশে)। দাগনভুইয়া, ফেনী। 01818-019684, 01721-910110 সর্বাধুনিক মেশিনে রোগ নির্নন ও বিশেষজ্ঞ ডক্টর চেম্বার।। ফেনী ল্যাব সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার।। এস এস কে রোড়, ফেনী।। 01711375108/ 01815507975

ছোটগল্প- বেলীফুলের নামহীন সুবাস

ওয়ালী উল্যাহ

প্রকাশিত: / বার পড়া হয়েছে


প্রথিকি ছবি

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত এগারোটা। ফেনী থেকে কক্সবাজারগামী নৈশকোচটি যখন মাত্র মহিপাল ছেড়েছে, তখনই সে এসে বসল পাশের সীটে। হালকা নীল রঙের একটা থ্রি-পিস, চোখে চশমা, আর চুলে হালকা বেলি ফুলের সুবাস।

শুরুতে একটা তীব্র সংকোচ আমাদের দুজনকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছিল। উইন্ডো সীটটা তার ছিল, তাই জানালার কাচ গলে আসা বাইরের আলো-আঁধারির দিকেই সে তাকিয়ে রইল বেশ কিছুক্ষণ। বাসের ভেতরের মৃদু নীল আলোয় আমি আড়চোখে তাকে দেখছিলাম। হঠাৎ ব্রেক চাপতেই আমাদের কাঁধ হালকা ছুঁয়ে গেল। আমি অপ্রস্তুত হয়ে বললাম, "দুঃখিত।"
সে মৃদু হেসে বলল, "ইটস ওকে।"

ব্যস, বরফ গলল সেখানেই। হাই-হ্যালো দিয়ে শুরু হওয়া আলাপটা ধীরে ধীরে এক বাক্য, দু বাক্যে রূপ নিল। জানা গেল, সেও কক্সবাজারের দিকেই যাচ্ছে। রাতের বাসের মৃদু মৃদু ঝাঁকুনি আর চারপাশের নীরবতার মাঝে আমাদের গল্প জমে উঠল। কথায় কথায় কখন যে একটা ভালো লাগা মনের কোণে দোলা দিতে শুরু করল, বুঝতেই পারিনি। আমি মাঝে মাঝেই আড়চোখে তার ঠোঁটের কোণের মৃদু হাসিটুকু দেখছিলাম।

বাসের এসিটা একটু বাড়তেই সে হালকা কাঁপছিল, আমি ওপরের এসি ভেন্টটা ঘুরিয়ে দিতেই সে কৃতজ্ঞতার চোখে তাকাল। এই ছোট ছোট যত্নে আমাদের মাঝে এক অদ্ভুত ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলো।

রাত দুটোর দিকে বাস যখন এক হাইওয়ে রেস্তোরাঁয় পথের বিরতি দিল, আমরা একসাথেই নামলাম। নিঝুম রাতের সেই হালকা হিমেল বাতাসে এক সাথে চা পান করা আর চিপ্স খাওয়ার মুহূর্তটা ছিল ম্যাজিকের মতো। সে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে তার ছেলেবেলার গল্প বলছিল, আর আমি অপলক চেয়ে শুনছিলাম। মনে হচ্ছিল, এই পথ যদি কোনোদিন শেষ না হতো!

কিন্তু নিয়তি তো আর ঘড়ির কাঁটা থামিয়ে রাখে না। রাতের অন্ধকার কেটে যখন ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে, তখনই বাসের হেলপার চিৎকার করে উঠল—"রামু! রামু নামবেন কে?"

ধক করে উঠল বুকটা। মেয়েটি ব্যাগটা কাঁধে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। তার মানে আমাদের পথ শেষ হয়ে এল। সে আমার দিকে তাকিয়ে একটু ম্লান হাসল। বাস থেকে নেমে শেষ রাতের সেই আলো-আঁধারিতে সে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। বাসটা যখন আবার চলতে শুরু করল, জানালার কাচ দিয়ে সে হাত নেড়ে বিদায় নিল।

ঠিক তখনই বুকের ভেতর এক ভীষণ টান অনুভব করলাম। একটা তীব্র শূন্যতা এসে গ্রাস করল আমাকে। হঠাতই মনে হলো—আরে! পুরোটা পথ এত কথা হলো, অথচ তার নামটাই তো জিজ্ঞেস করা হয়নি! তাড়াহুড়োয় ভুলে তার মোবাইল নাম্বারটাও নেওয়া হয়নি। আমি জানালার বাইরে তাকিয়ে রইলাম, কিন্তু বাস ততক্ষণে দ্রুত গতিতে তার গন্তব্যের দিকে মিলিয়ে যাচ্ছে, পেছনে ফেলে যাচ্ছে তাকে আর আমার একরাশ আফসোস।

পরদিন সকালে আমি যখন কক্সবাজার সৈকতে গিয়ে দাঁড়ালাম, বিশাল সমুদ্রের গর্জনও আমার মনের হাহাকার থামাতে পারছিল না। সৈকতে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের তালে তালে আমি শুধু চশমা পরা সেই চেনা মুখটাকে খুঁজছিলাম। প্রতিটি চুলে বেলি ফুলের সুবাসে, প্রতিটি নীল রঙের পোশাকে আমার চোখ তাকেই খুঁজে বেড়াচ্ছিল।

আজ অনেকদিন হয়ে গেল সেই সফরের। কিন্তু নীল বাসের সেই মৃদু আলো, একসাথে খাওয়া সেই এক কাপ চা, আর শেষ রাতের সেই হাত নাড়ার দৃশ্যটা এখনো মনে পড়ে। সে হয়তো তার জীবনে ব্যস্ত, কিন্তু আমার কাছে সে আজও সেই নামহীন এক রাজকন্যা, যে আমার জীবনের একটা রাতকে গল্প বানিয়ে দিয়ে গেছে।

Share

আরো খবর


সর্বাধিক পঠিত